খাওয়ার সুন্নত বিষয়সমূহ
হাদীসে বর্ণিত আছে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাওয়ার আগে হাতের কব্জি পর্যন্ত ধৌত করতেন। কারণ হাত ধুয়ে না খেলে অনেক রোগজীবাণু আমাদের শরীরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।
এছাড়া খাবার গ্রহণের আগে অবশ্যই 'বিসমিল্লাহ' বলে খাওয়া আরম্ভ করতেন, সাথে সাথে সঙ্গীদেরও বলতে উৎসাহিত করতেন। আর যদি বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যাই সেক্ষেত্রে আরো একটি দোয়া পড়তে পারেন তা হলো -'বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহ' ।
আনাস(রা.) বলেছেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দস্তরখানা বিছিয়ে খেতে বসতেন। অবশ্যই ডান হাত দিয়ে খাবার খেতে হবে, কেননা শয়তান বাম হাত দিয়ে খাবার খায়।আর কোনো খাবার নিচে পড়ে গেলে যদি সম্ভব হয় অবশ্যই তুলে ধুয়ে খেতে হবে। কারণ মহানবী (সা.) বলেছেন, "তোমরা জানো না কোথায় বরকত আছ"।
কোন খাবার ফুঁক দিয়ে খাওয়া যাবে না। কারণ এতে জীবাণু খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। খাওয়ার সময় অকারণে কথা বলা ঠিক না, এতে খাবার গলায় আটকে যেতে পারে।
এছাড়া মহানবী (সা.) বলেছেন,"আমি খাবার খাওয়ার সময় হেলান দেই না।" কারণ এটি অনেক সময় দাম্ভিকতা প্রকাশ করে।
এছাড়া হেলান দিয়ে খাবার খেলে পেট বড় হয়ে যায়। আঙ্গুল চেটে খাওয়া শেষ করতে হবে। মহানবী (সা.)বলেছেন,"তোমরা খাবার শেষে হাত না চেটে হাত ধুবে না, কেননা তোমরা জানো না কোথায় বরকত আছে"।
খাবার শেষে অবশ্যই এই দোয়া পড়তে হবে -"আলহামদুলিল্লাহি হামদান কাসিরান ত্বয়্যিবান মুবারাকান ফিহি, গায়রা মাকফিইন, ওলা মুয়াদ্দায়িন ওলা মুসতাগনা আনহু রাব্বানা। " তিনি কখনো এই দোয়া পড়তেন: ‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আতআমানা ওয়াছাকানা ওয়াজাআলানা মিনাল মুসলিমিন। ’ (বুখারি, হাদিস নং : ৫৪৫৮)
কারণ আমরা যে খাবার খাই সেটা আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নিয়ামত। তাই অবশ্যই আমাদের আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করা উচিত।

Comments
Post a Comment